বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার চেকলিস্ট
বৈধ পথে ফ্রান্সে কাজে যেতে চাইলে, কাউকে টাকা দেওয়ার আগে এই তালিকা মিলিয়ে নিন।

সবচেয়ে জরুরি কথা
চাকরি, নিয়োগকর্তা, ভিসা এবং টাকা জমা দেওয়ার শর্ত স্বাধীনভাবে যাচাই না করে কোনো বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না। এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেই তাদের ফ্রান্সের চাকরির অফারটি বৈধ প্রমাণিত হয় না।
এক নজরে এই দেশ
ঝুঁকি: মাঝারি — যাচাই জরুরি- অঞ্চল
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন · শেনজেন
- পারমিট / ভিসা
- Autorisation de travail → দীর্ঘমেয়াদি ভিসা “salarié” (VLS-TS)
- নিয়োগ যেভাবে হয়
- নিয়োগকর্তা ANEF পোর্টালে কাজের অনুমতি নেন → France-Visas-এ দীর্ঘমেয়াদি ভিসা → BMET ছাড়পত্র → পৌঁছে অনলাইনে ভিসা ভ্যালিডেশন
- কোথায় আবেদন
- ঢাকার ফরাসি দূতাবাস (France-Visas পোর্টাল ও ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে)
- প্রচলিত মোট খরচ
- ৳৫–১২ লাখ (আনুমানিক)
- প্রচলিত বেতন
- আইনি ন্যূনতম মজুরি (SMIC) জুন ২০২৬ থেকে প্রায় €১,৮৭০/মাস (গ্রস, সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টা); সাধারণ কাজে আনুমানিক €১,৮৭০–২,৩০০
- সময়
- ৬–১২ মাস
- ভাষা
- ফরাসি — প্রায় সব কাজে দরকার
- প্রচলিত খাত
- নির্মাণ · কেয়ার · ওয়েল্ডিং · রেস্টুরেন্ট/হসপিটালিটি
খরচ ও বেতন আমাদের আনুমানিক হিসাব—অফার, কাজ ও সময় অনুযায়ী বদলায়। এটি চাকরি, ভিসা বা বেতনের নিশ্চয়তা নয়।
১. দালালকে টাকা দেওয়ার আগে
যা যাচাই করবেন০/২৭
আপনার টিক চিহ্ন শুধু এই ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে থাকে।
২. সরকারি ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন
বাংলাদেশ
- BMETলাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা, এজেন্সির সরকারি লাইসেন্স নম্বর (RL নম্বর), স্ট্যাটাস ও মেয়াদ; বহির্গমন ছাড়পত্রbmet.gov.bd
- Ami Probashiকর্মী নিবন্ধন, BMET ক্লিয়ারেন্স ও স্মার্ট কার্ডের অনলাইন প্রক্রিয়াwww.amiprobashi.com
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সরকার-নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়, নোটিশ ও অভিযোগের তথ্যprobashi.gov.bd
- BOESLসরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান — G2G (যেমন কোরিয়া EPS, জাপান) বিজ্ঞপ্তিboesl.gov.bd
গন্তব্য দেশ
- ANEF (Administration des étrangers)কাজের অনুমতি ও ভিসা ভ্যালিডেশনadministration-etrangers-en-france.interieur.gouv.fr
- Embassy of France in Bangladeshঢাকায় ভিসা তথ্যbd.diplomatie.gouv.fr/fr
- Welcome to Franceসরকারি কর্মী/প্রতিভা পোর্টালwww.welcometofrance.com
- Annuaire des Entreprisesকোম্পানি নিবন্ধন যাচাইannuaire-entreprises.data.gouv.fr
মনে রাখবেন, শুধু অনলাইন আবেদনের স্ক্রিনশট বা এজেন্সির দেখানো PDF অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করুন।
৩. এই লক্ষণগুলো দেখলে টাকা দেওয়া বন্ধ রাখুন
বিপদের লক্ষণ
- “১০০% ভিসা গ্যারান্টি” বা “কোনো রিজেকশন হয় না”।
- নিয়োগকর্তার নাম গোপন রাখা।
- যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে দ্রুত টাকা দিতে চাপ দেওয়া।
- শুধু WhatsApp-এ কথা, কিন্তু লিখিত চুক্তি নেই।
- ভিজিট/ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ শুরু করতে বলা।
- অনুমোদন বা রিফান্ডের প্রমাণ না দিয়ে বারবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া।
- “আঙুর/কৃষির সিজনাল ভিসা”-র নামে টাকা নেওয়া — আগে নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া ভিসা হয় না।
- ভিজিট ভিসায় গিয়ে “পরে কাগজ” — পরে বৈধ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
৪. দালালকে এই মেসেজটি পাঠাতে পারেন
কপি করে WhatsApp বা মেসেজে পাঠান
ফ্রান্সের ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই: ১. ফ্রান্সের নিয়োগকর্তার কোম্পানির নাম, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী? ২. চাকরির অফার ও স্বাক্ষরিত চুক্তি কি যাচাই করতে পারব? ৩. Autorisation de travail → দীর্ঘমেয়াদি ভিসা “salarié” (VLS-TS)-এর জন্য কোন প্রক্রিয়ায় আবেদন হবে? ৪. সরকারি আবেদন নম্বর বা অনলাইনে যাচাই করার প্রমাণ দেবেন কি? ৫. মোট খরচ, ধাপে ধাপে পেমেন্ট এবং ভিসা না হলে রিফান্ডের শর্ত কী? ৬. বাংলাদেশ থেকে আগে আপনাদের মাধ্যমে সফলভাবে ফ্রান্সে গেছেন—এমন কর্মীর রেফারেন্স দিতে পারবেন কি? সব তথ্য ও চুক্তি যাচাই করার পরই পেমেন্টের সিদ্ধান্ত নেব।
আমাদের পরামর্শ
কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে তাদের নাম, সরকারি লাইসেন্স নম্বর (RL নম্বর), ফ্রান্সের কোম্পানির নাম এবং মোট প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করুন। এগুলো দিয়ে আপনি নিজে একে একে ঝুঁকি যাচাই করতে পারবেন—অথবা আমাদের পাঠালে আমরা আপনার সঙ্গে যাচাই করব।
এজেন্সি যাচাই করাতে আমাদের জানান