বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাওয়ার চেকলিস্ট
বৈধ পথে লিবিয়ায় কাজে যেতে চাইলে, কাউকে টাকা দেওয়ার আগে এই তালিকা মিলিয়ে নিন।

সবচেয়ে জরুরি কথা
চাকরি, নিয়োগকর্তা, ভিসা এবং টাকা জমা দেওয়ার শর্ত স্বাধীনভাবে যাচাই না করে কোনো বড় অঙ্কের টাকা দেবেন না। এজেন্সির লাইসেন্স থাকলেই তাদের লিবিয়ার চাকরির অফারটি বৈধ প্রমাণিত হয় না।
নতুন সতর্কতা
লিবিয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু ফেব্রুয়ারি–সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বেনগাজি ও ত্রিপোলির আটককেন্দ্র থেকে ১,০০০-এর বেশি বাংলাদেশিকে IOM-এর সহায়তায় ধাপে ধাপে দেশে ফেরত আনতে হয়েছে। দেশের বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাচার প্রতিবেদন লিবিয়াকে টানা ১০ বছর “বিশেষ ক্ষেত্র” (Special Case) হিসেবে রেখেছে।
এক নজরে এই দেশ
ঝুঁকি: বেশি — প্রতারণার অভিযোগ বেশি- অঞ্চল
- আফ্রিকা
- পারমিট / ভিসা
- নিয়োগকর্তা-ভিত্তিক ওয়ার্ক ভিসা ও রেসিডেন্স
- নিয়োগ যেভাবে হয়
- নিয়োগকর্তার ওয়ার্ক ভিসা → ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসে যাচাই → BMET ছাড়পত্র → সরাসরি বিমানে লিবিয়া
- কোথায় আবেদন
- নিয়োগকর্তার মাধ্যমে; দুবাই/মিশর ঘুরে যাওয়ার প্রস্তাব এড়িয়ে চলুন
- প্রচলিত মোট খরচ
- ৳৩–৬ লাখ (আনুমানিক)
- প্রচলিত বেতন
- USD ৩০০–৫০০/মাস (অনুমান; প্রায়ই অনিয়মিত)
- সময়
- ৩–৬ মাস
- ভাষা
- আরবি কাজে লাগে
- প্রচলিত খাত
- নির্মাণ · পরিচ্ছন্নতা · কারখানা
খরচ ও বেতন আমাদের আনুমানিক হিসাব—অফার, কাজ ও সময় অনুযায়ী বদলায়। এটি চাকরি, ভিসা বা বেতনের নিশ্চয়তা নয়।
১. দালালকে টাকা দেওয়ার আগে
যা যাচাই করবেন০/২৭
আপনার টিক চিহ্ন শুধু এই ফোন বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে থাকে।
২. সরকারি ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন
বাংলাদেশ
- BMETলাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা, এজেন্সির সরকারি লাইসেন্স নম্বর (RL নম্বর), স্ট্যাটাস ও মেয়াদ; বহির্গমন ছাড়পত্রbmet.gov.bd
- Ami Probashiকর্মী নিবন্ধন, BMET ক্লিয়ারেন্স ও স্মার্ট কার্ডের অনলাইন প্রক্রিয়াwww.amiprobashi.com
- প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সরকার-নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়, নোটিশ ও অভিযোগের তথ্যprobashi.gov.bd
- BOESLসরকারি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠান — G2G (যেমন কোরিয়া EPS, জাপান) বিজ্ঞপ্তিboesl.gov.bd
মনে রাখবেন, শুধু অনলাইন আবেদনের স্ক্রিনশট বা এজেন্সির দেখানো PDF অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করুন।
৩. এই লক্ষণগুলো দেখলে টাকা দেওয়া বন্ধ রাখুন
বিপদের লক্ষণ
- “১০০% ভিসা গ্যারান্টি” বা “কোনো রিজেকশন হয় না”।
- নিয়োগকর্তার নাম গোপন রাখা।
- যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়ে দ্রুত টাকা দিতে চাপ দেওয়া।
- শুধু WhatsApp-এ কথা, কিন্তু লিখিত চুক্তি নেই।
- ভিজিট/ট্যুরিস্ট ভিসায় গিয়ে কাজ শুরু করতে বলা।
- অনুমোদন বা রিফান্ডের প্রমাণ না দিয়ে বারবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া।
- “লিবিয়া হয়ে ইতালি পৌঁছে দেব” — এটি মানবপাচার; সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু, অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা ঘটছে।
- পৌঁছানোর পর “আরও টাকা না দিলে ছাড়ব না” — বাড়িতে টাকা পাঠাতে চাপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাস ও পুলিশে জানান।
৪. দালালকে এই মেসেজটি পাঠাতে পারেন
কপি করে WhatsApp বা মেসেজে পাঠান
লিবিয়ার ওয়ার্ক পারমিট প্রসেস শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই: ১. লিবিয়ার নিয়োগকর্তার কোম্পানির নাম, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী? ২. চাকরির অফার ও স্বাক্ষরিত চুক্তি কি যাচাই করতে পারব? ৩. নিয়োগকর্তা-ভিত্তিক ওয়ার্ক ভিসা ও রেসিডেন্স-এর জন্য কোন প্রক্রিয়ায় আবেদন হবে? ৪. সরকারি আবেদন নম্বর বা অনলাইনে যাচাই করার প্রমাণ দেবেন কি? ৫. মোট খরচ, ধাপে ধাপে পেমেন্ট এবং ভিসা না হলে রিফান্ডের শর্ত কী? ৬. বাংলাদেশ থেকে আগে আপনাদের মাধ্যমে সফলভাবে লিবিয়ায় গেছেন—এমন কর্মীর রেফারেন্স দিতে পারবেন কি? সব তথ্য ও চুক্তি যাচাই করার পরই পেমেন্টের সিদ্ধান্ত নেব।
আমাদের পরামর্শ
কোনো এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে তাদের নাম, সরকারি লাইসেন্স নম্বর (RL নম্বর), লিবিয়ার কোম্পানির নাম এবং মোট প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করুন। এগুলো দিয়ে আপনি নিজে একে একে ঝুঁকি যাচাই করতে পারবেন—অথবা আমাদের পাঠালে আমরা আপনার সঙ্গে যাচাই করব।
এজেন্সি যাচাই করাতে আমাদের জানান